এখানে প্রসাব করিবেন না , করিলে গুনতে হবে জরিমানা। এখানে ধুমপান নিষেধ , এখানে হর্ন বাজানো নিষেধ, দেয়ালে পোস্টার লাগানো নিষেধ, আরো কত কত বিধি নিষেদ আমাদের চোখের সামনে দেয়ালে দেয়ালে লেখা থাকে। ধরুন কোনো এক স্থানে স্পষ্ট করে লিখা এখানে প্রসাব করা নিষেধ, সেখানে তো কোট টাই পরা বা সাধারণ নিতান্ত কোনো ব্যাক্তি প্রসাব করতে বসবে না। বসবে তারাই যারা হয়তো ওইখানে যা লিখা আছে তা পড়তে পারে না বা পড়তে জানা সত্ত্বেও নিয়ম অমান্য করে কাজ টা করে। যারা পড়তে জানেন না তারা তো বুঝবেই না যে এখানে কি লিখা আছে , কিন্তু যারা পড়াশুনা জানা মূর্খ তাদের নিয়েই আজকের এর আয়োজন।
পাবলিক প্লেসে লিখা এখানে ধুমপান নিষেধ, আবার এয়ারপোর্টেও লিখা এখানে ধুমপান নিষেধ। একজন ব্যাক্তি পাবলিক প্লেসে ঠিকি ধুমপান করলেন কিন্তু এয়ারপোর্টে ধুমপান করলেন না। এতে কি বুঝা যায়, শুধু কি অক্ষর জ্ঞান থাকলেই আমরা শিক্ষিত হতে পারলাম বা শৃঙ্খলা মেনে চললাম।
ঢাকা শহরে একটা এক্সপেরিমেন্ট করা হয় , যে সকল দেয়াল গুলোতে লিখা ছিলো এখানে প্রসাব করা নিষেধ সেই দেয়াল গুলোতে ঠিক সেম লিখা টাই লিখা হয় কিন্তু লিখার অক্ষর গুলো থাকে আবরি হরফ এর। কোনো ব্যাক্তি সেখানে আর প্রসাব করে নাই । এতেও বা কি বুঝা যায় , অক্ষর জ্ঞান না থাকলেও কি আমরা শিক্ষিত হতে পারলাম বা শৃঙ্খলা মেনে চললাম।
তাহলে আসলে ব্যাপার টা কি – নিয়ম শৃঙ্খলা মান্যতা আসলে মানুষের মধ্যে তৈরি হয় কিভাবে।
মানুষ মহান আল্লাহ তালার এক অপরূপ সৃষ্টি । আল্লাহ তালা মানুষ কে সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে দুনিয়াতে পাঠিয়েছে। কিন্তু আসলে সেই মানুষটিই সেরা যে মানুষটার ভিতরে মনুষত্ব বোধ আছে যার ভিতরে রয়েছে ভালবাসা, স্নেহ, মায়া, মমতা, অন্যায় এর প্রতি কঠোরতা, বিসর্জন ক্ষমতা। অন্যান্য প্রাণীদের মধ্যে তো এত গুন আপনি পাবেন না পেলে হয়তো পেতে পারেন হিংস্রতা, আবেগহীনতা, অনমনীয়তা। মানুষ কে কিভাবে আমরা পারি সেই সকল প্রাণীদের সাথে তুলনা করতে।
কিন্তু একজন মানুষ হয়ে বলতে কষ্ট হয় যে কিছু রক্ত মাংসে গঠিত মানুষ অনেক সময় হিংস্র জন্তুর চেয়েও খারাপ রূপ ধারন করে। বলার অপেক্ষা রাখে না আপনি নিজেই আশে পাশের পারিপার্শিক খবরা খবর নিয়ে দেখুন, আপনার চোখের সামনে মানুষের কত বাজে রূপ টাই না ভেশে উঠবে।
পৃথিবীর সেরা জীব হয়ে আমরা পৃথিবীর নিকৃষ্ট রূপ ধারন করতে দ্বিধা বোধ করি না। “নেপোলিয়ন হিলের” থিংক এন্ড গ্রো রিচ বইটিতে কিছু সাইকোলোজিক্যাল টার্ম তিনি উল্লেখ করেছিলেন যেমনঃ মানুষ যখন প্রথম কোনো বাজে কর্ম সম্পাদন করে , তখন তিনি প্রচণ্ড হীনমন্যতায় ভুগে, নিজে নিজেই খুব অপমানিত বোধ করে, নিজের স্বত্বার প্রতি ঘৃণা হয় তখন। কিন্তু যখন সেই বাজে কাজটি আবার সম্পাদন করে তখন তার এর মনুষত্ব হালকা লোপ পায়, বার বার যখন সে বাজে কাজটি করতে থাকে তখন সে সেটাকে একটা সত্যতে রূপ দিয়ে ফেলে এবং সে মনে করে যে এটা কোনো বাজে কাজ ই নয়, এখান থেকে বুঝা যায় অপরাধ বা বাজে কাজ তখন ই সত্য বা সঠিক এ রূপান্তর হয় যখন তা প্র্যাকটিস এ পরিণত হয়। আদৌ কি তা সত্য বা সঠিক কিনা ?? আপনি নিজেই একবার চিন্তা করে দেখুন।
খাবার এ ভেজাল মেশানোর সময় প্রথম বার খুব খারাপ লাগবে নিজের কাছে, কিন্তু কিছুদিন প্র্যাকটিস করেন আপনার মধ্যে ওই খারাপ লাগাটার কোনো বালাই ও খুঁজে পাবেন না। এটা যে কোনো বাজে কাজের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য ।
এটা তো সাধারণ কথা বললাম, যারা অপরাধতত্ত (ক্রৃমিনোলজি) নিয়ে পড়াশুনা করেন বা করেছেন তারা হিউমেন সাইকোলোজি আরো উন্নত ভাবে বুঝেন, তারা উপলব্ধি করতে পারেন কেনো একটা লোক অপরাধে জড়িয়ে পরে। কেনো তিনি তার আল্লাহ প্রদত্ত সেরা হওয়ার গুনটিকে হারিয়ে ফেলেন।
তাহলে স্কুল কলেজ ইউনিভার্সিটির এই লোক দেখানো পড়াশুনার মূল্যায়ন টা কোথায় থাকে। আপনার তো শিক্ষা বা মনুষত্ব কিছুই তৈরি হল না। আপনি তো সেরা হতে পারলেন না যার মর্যাদা বিধাতা আপনাকে দিয়ে পাঠিয়েছে।
বাংলায় একটা বাক্য আছে, “সঙ্গ দোষে লোহা ভাসে” আপনি পৃথিবীতে এসেছেন একা, যাবেন ও একা। মধ্যে থেকে ঐ সঙ্গ দোষের কারনে আপনাকে ভাসতে হচ্ছে, কিন্তু আপনি তো লোহা আপনার সেরা টা তো ভেসে থাকা না, আপনার সেরাটা তো হচ্ছে আপনি ভাসবেন না, গভীরে চলে যাবেন। আপনি কি একবার চিন্তা করে দেখেছেন আপনার আপন সত্ত্বাকে কিভাবে মেরে ফেলা হল। আপনি যেখানে জ্ঞান বিজ্ঞানে এগিয়ে দেশ সমাজ জাতির উন্নতির কথা চিন্তা করবেন সেখানে আপনি কি করছেন একবার চিন্তা করেছেন। এই চিন্তা করাটাও সেই অসৎ সঙ্গ কেড়ে নিবে।
অসৎ সঙ্গ টা কে আসলে, ওই যে উপরে বললাম যে প্রাক্টিসিং অপরাধী সে হচ্ছে অসৎ সঙ্গ। আশা করি বুঝতে পেরেছেন।
আপনার পরিবার অনেকটাই আপনাকে মনুষত্বের শিক্ষা দিতে অপারগ, আর নয় আপনি এই মনুষত্বহীনতা আপনার পরিবার থেকেই শিখেছেন। পারিবারিক শিক্ষার উপর তো আর কোনো শিক্ষাই হয় না। অনেকেই আছেন যাদের পিতা মাতা জীবিত থাকা অবস্থায় কোনো দিন কোনো বাজে কাজ করেন নি কারন পিতা মাতা অসৎ কাজে বাধা দিতেন, অসৎ কাজের ফলাফল অসৎ সে কথা বলতেন কিন্তু তাদের মৃত্যুবরণ অনেকের ই অসৎ কর্মের দ্বার খুলে দেয়। কারন বাধা দেয়ার যে কেউ নেই, কেউ যে বলার নেই, অপরাধের গভীর ত্বত্তে আপনি ও গা ভাসান তখন, তখন আর পিতামাতার দেয়া শিক্ষা মনেই থাকে না।
আর আমাদের পিছনে সার্বক্ষণিক একজন ইবলিশ-শয়তান তো লেগেই আছে, যার কাজ ই হলো আমাদের দ্বারা যতটা সম্ভব অসৎ কাজ করিয়ে সেটাকে একটা প্রাকটিস এ পরিণত করিয়ে দেয়া। এতেই যে তার স্বাধ্য হাসিল হয়। বর্তমানে একটা কথা খুব প্রচলিত সেটা হচ্ছে “ইলুমিনাটি”, যার মানে হচ্ছে শয়তানের পূজো করা। এখন মানুষ মনে করতে পারে যে, শয়তানের পূজা আবার কিভাবে করে, কোনো কাজ সেটা অপরাধ হোক, অসৎ হোক, বাজে হোক, গুনাহের হোক সেই কাজটি আপনি বারংবার করছেন, খুব ভালো প্র্যাকটিস হচ্ছে কাজটির, সেটাই হচ্ছে শয়তানের পূজো। আপনি এভাবে খুব দ্রুত সফলতা পাবেন এবং আপনি মনে করবেন এটা বোধ হয় আপনার কষ্টার্জিত, আসলে তা নয় , ব্যাপারটাকে একবার গভীর ভাবে চিন্তা করে দেখুন, সব খোলাসা হয়ে যাবে।
আর আপনি সেই বাজে কাজটি করে ফেললেন এবং যার বিপরীতে করলেন তার নিকট ক্ষমা চাইলেন, তিনি ক্ষমা না করা পর্জন্ত ক্ষমা চাইলেন তাহলে আপনি শয়তান কে পরাজিত করতে পারলেন, নিজে সৃষ্টির সেরা হওয়ার মর্যাদা টা অক্ষুণ্য রাখলেন।
আমাদের দেশের বই পুস্তকে ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা নামে একটা পাঠ্যপুস্তক রয়েছে, এই বইটির মর্যাদা শুধু পরিক্ষার খাতায় দেয়ার জন্যে নয়, নিজের জীবনের সাথে ব্যবহার করার জন্যে, নিজের জীবনে নৈতিকতা কে একটা জায়গা করে দেয়ার জন্যে , আপনি যেনো শৃঙ্খল হন নিয়ম শৃঙ্খলা মেনে চলেন এবং নিজেকে সেরা হিসেবে তৈরি করতে পারেন তাই বইটি সংযোজিত হয়েছে।
আসলে একটা অপরাধের সাথে শিক্ষাকে কখনোই মিলানো যায় না। শিক্ষা হচ্ছে আপনার চোখ আপনার মস্তিষ্ক কে উন্মুক্ত করার একটা উপায় যদি আপনি তা বাস্তব জীবনে ধারন করেন আর নইলে ওই পরিক্ষার খাতার মর্যাদা টাই টিকে থাকবে আপনার নিজের নয়।
Subscribe to our newsletter
Join our monthly newsletter and never miss out on new stories and promotions.