ঢাকা পৃথিবীর একটি প্রাচীনতম শহর। এটি ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম রাজধানী ছিল। সাধারণভাবে, এখানে ২০ মিলিয়নেরও বেশি লোকের বসবাস। ঢাকা সবচেয়ে দূষিত এবং বসবাসের অযোগ্য দেশ হিসেবে রেকর্ড গড়েছে। এ কারণে পর্যটকরা ভয়ে দেশটিকে এড়িয়ে যেতে ইচ্ছাবোধ করনে। সাধারণভাবে, বাংলাদেশের মানুষ খুব সৌহার্দ্যপূর্ণ এবং পর্যটকরা যদি এই দেশে আশেন, তাহলে ঢাকা শহরের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক বিষয়বস্তু দেখে যে তাঁরা বিস্মিত হবেন এটা বলার অপেক্ষা রাখে না । একই সময়ে, এটি পর্যটকদের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ একটি শহর। ঢাকা বা বাংলাদেশের যেকোনো প্রান্তে থাকা নাগরিক বা যে কোন পর্যটক যখন ঢাকা বেরাতে চাইবেন, তখন এই প্রাচীন ও ঐতিহাসিক শহরটি দেখতে যে সকল দর্শনীয় স্থান আপনার ভ্রমণ তালিকায় থাকা চাই এমন কিছু আশ্চর্যজনক প্রাচীন নজির আপনাদের সম্মুখে ধারাবাহিক ভাবে তুলে ধরলাম। (পর্ব-১)
আহসান মঞ্জিল
অষ্টাদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে জামালপুর পরগনার জমিদার শেখ ইনায়েতউল্লাহ আহসান মঞ্জিলের বর্তমান স্থান রংমহল নামে একটি প্রমোদভবন তৈরি করেন। পরবর্তীতে তার পুত্র শেখ মতিউল্লাহ রংমহলটি ফরাসি বণিকদের কাছে বিক্রি করে দেন। বাণিজ্য কুঠি হিসাবে এটি দীর্ঘদিন পরিচিত ছিল। এরপরে ১৮৩০-এ বেগমবাজারে বসবাসকারী নওয়াব আবদুল গনির পিতা খাজা আলীমুল্লাহ এটি ক্রয় করে বসবাস শুরু করেন। এই বাসভবনকে কেন্দ্র করে খাজা আবদুল গনি মার্টিন অ্যান্ড কোম্পানী নামক একটি ইউরোপীয় নির্মাণ ও প্রকৌশল-প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে একটি মাস্টারপ্ল্যান তৈরী করান, যার প্রধান ইমারত ছিল আহসান মঞ্জিল। ১৮৫৯ সালে নওয়াব আবদুল গনি প্রাসাদটি নির্মাণ শুরু করেন যা ১৮৭২ সালে সমাপ্ত হয়। তিনি তার প্রিয় পুত্র খাজা আহসানুল্লাহর নামানুসারে এর নামকরণ করেন ‘আহসান মঞ্জিল’। ওই যুগে নবনির্মিত প্রাসাদ ভবনটি রংমহল ও পুরাতন ভবনটি অন্দরমহল নামে পরিচিত ছিলবিশেষ করে, এটি ইসলামপুরে (পুরান ঢাকা) বুড়িগঙ্গার তীরে অবস্থিত। তদুপরি, এটি মুঘল আমলের একটি বড় প্রাসাদ। এছাড়াও, আপনি যদি মুঘল আমলের জীবনধারা এবং আশ্চর্যজনক নিদর্শন দেখতে চান তবে আপনি এই জায়গাটিতে যেতে পারেন।
জাতীয় সংসদ ভবন বাংলাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ স্থাপত্য নিদর্শন। ১৯৬৩ সালে, লুই আই কান নামে একজন বিখ্যাত আমেরিকান স্থপতি ভবনটির নকশা করেন। জাতীয় সংসদ ভবনটি সময় কাটানোর এবং আশেপাশের স্থানগুলির সৌন্দর্য দেখার জন্য একটি আকর্ষণীয় জায়গা। সবচেয় উপলব্ধি করা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, বিল্ডিংয়ের ভিতরে প্রবেশ করতে আপনাকে পাসপোর্টে ভিসা দেখাতে হবে (বিদেশি পর্যটকদের ক্ষেত্রে) বা পরিচয় পত্র (লোকালদের জন্যে)। কিছু ক্ষেত্রে, আপনি অনুমতি নাও পেতে পারেন। আপনি আশেপাশের পরিবেশ উপভোগ করতে পারেন এবং এটি খুব চমকপ্রদ।
লালবাগ কেল্লা যা পুরান ঢাকার লালবাগে অবস্থিত। সম্রাট আওরঙ্গজেব লালবাগ কেল্লা নির্মাণের পরিকল্পনা ও নির্দেশ দেন। ১৬৭৮ সালে তার পুত্র মুঘল সুবাহদার মুহাম্মদ আজম দুর্গ নির্মাণের কাজ শুরু করেন। তখন এর নাম হয় আওরঙ্গবাদ ফোর্ট। শেষ পর্যন্ত শায়েস্তা খান কাজ চালিয়ে যান। দুর্ঘটনাক্রমে তার মেয়ের মৃত্যুতে কাজটি অসমাপ্ত রাখা হয়। এই ঘটনার সাথে সাথে নাম পরিবর্তন করে লালবাগ কেল্লা করা হয়। এই নামেই জনপ্রিয়তা পায়।
এই দুর্গের সবচেয়ে আকর্ষণীয় এলাকা হল সম্রাট শায়েস্তা খানের বসবাস ও মিলনস্থল। এখন, এটি যাদুঘর হিসাবে ব্যবহৃত হয়। দুর্গের তিনটি প্রধান ফটক রয়েছে। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে দুটি গেট এখন বন্ধ রয়েছে। লালবাগ কেল্লায় গিয়ে দর্শনার্থীরা মুঘল আমলের স্থাপত্য সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন।
পুরান ঢাকার একটি ব্যস্ত এলাকা হচ্ছে সদরঘাট। অন্তত দুইশতাধিক লঞ্চ বিভিন্ন স্থান থেকে যাত্রা ও আগমনের জন্য এই টার্মিনাল ব্যবহার করে। আপনি সদরঘাটে রাস্তার আশে পাশে অনেক হকার দেখতে পাবেন যারা বিভিন্ন ধরণের জিনিস বিক্রি করছে। সাধারণত বরিশাল, খুলনা, এবং চট্টগ্রাম বিভাগের মানুষের জন্য ঢাকা শহরে প্রবেশের একটি প্রবেশপথ এই সদরঘাট। একজন ভ্রমণকারী হিসাবে, চারপাশের দৃশ্য দেখার জন্য আপনি নৌকায় চড়তে পারেন। প্রকৃতপক্ষে, সরদারঘাট প্রকৃত ঢাকাইয়াবাসীর প্রকৃত স্বরূপ। শহরের একটি ব্যস্ত টার্মিনালের জন্য, আপনাকে নৌকায় চড়ার জন্য কিছু সময় অপেক্ষা করতে হতে পারে। একজন ভ্রমণপিপাসু হিসাবে সদরঘাট ভ্রমণ আপানাকে একটি দুর্দান্ত অভিজ্ঞতা দিবে।
আজ এ পর্যন্তই আগামী পর্বে ঢাকার ইতিহাস ঐতিহ্য সংবলিত আরো দর্শনীয় স্থান নিয়ে আলোচনা করবো। আগামী পর্বে থাকছে - ঢাকেশ্বরী মন্দির, শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ-রায়ের বাজার, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, জাতীয় বোটানিক্যাল গার্ডেন এবং ঢাকা চিড়িয়াখানা।
রিলেটেড পোস্ট / আরো পড়ুন
Subscribe to our newsletter
Join our monthly newsletter and never miss out on new stories and promotions.