আজ - ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, শনিবার, মে ১৮, ২০২৪ ০৬:৩০:০৬

রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ পরিস্থিতি ও আধুনিক বিশ্বব্যবস্থা | Russia Ukraine war situation and modern world order

রাকিবুল হাসান
- শিক্ষার্থী, আইন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
28 Feb, 2022
The Bangla Reader

সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত ছিলো আজকের ইউক্রেন। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ভেঙে যাওয়ার পর এই দেশটি আত্মপ্রকাশ করে। সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পর ১৫ টি স্বাধীন দেশের আত্মপ্রকাশ হয়। দেশগুলো স্বাধীন হলেও প্রায় প্রতিটি দেশের উপর রুশ আধিপত্য বজায় থাকে। আদি থেকেই সোভিয়েত ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত মধ্য এশিয়ার প্রতিটি দেশেই বর্তমান রাশিয়া নিজেদের পছন্দসই সরকার স্থাপন করে রেখেছে। মধ্য এশিয়ার মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রজাতন্ত্র গুলো ছাড়াও পূর্ব ইউরোপের অধিকাংশ দেশগুলোতেও রাশিয়া নিজেদের অনুগত সরকার নিশ্চিত করেছে। তবে সম্প্রতি ইউক্রেনে পশ্চিমাপন্থি জেলেনিস্কি ক্ষমতায় আরোহন করার মধ্য দিয়ে এই পুরাতন এই সংকট নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে।



মোটাদাগে বলতে গেলে এই সংকটের মূল কারণ ন্যাটোর আগ্রাসী সামরিক পদক্ষেপ এবং রাশিয়ার হারানো  পুরাতন কর্তৃত্ব ফিরে পাওয়ার উদগ্র বাসনা। তবে প্রশ্ন আসতে পারে এই ক্ষেত্রে ইউক্রেন কেনো গুরুত্বপূর্ণ। ইউক্রেন এর খানিক পাশেই সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরোধিতা থেকে উৎপত্তি লাভ করা ন্যাটো জোটের অন্তর্ভুক্ত পশ্চিম ইউরোপের শক্তিশালী দেশগুলো। এর আগে রাশিয়ার নিকটবর্তী দেশ পোল্যান্ডে ন্যাটো নিজেদের সামরিক ঘাঁটি নিশ্চিত করেছে। রাশিয়ার শত বিপত্তি সত্ত্বেও ন্যাটোকে পোল্যান্ডে সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করা থেকে বিরত করা যায় নি। রাশিয়া শুরু থেকেই ন্যাটোর এই ঘাঁটি স্থাপনকে নিজের নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে আসছে।



ইউক্রেন হলো রাশিয়া দ্বারা তিন দিক দিয়ে বেষ্টিত একটি দেশ, পশ্চিমারা চাচ্ছে ইউক্রেনকে ন্যাটো জোটের অন্তর্ভুক্ত করার মধ্য দিয়ে রাশিয়ার নিরাপত্তাকে আরো ভঙ্গুর করে দেয়া এবং পূর্ব ইউরোপে পশ্চিমাদের নিজেদের আধিপত্য নিশ্চিত করা। তবে রাশিয়া শুরু থেকেই ইউক্রেনের ন্যাটোতে যোগ দেয়ার ব্যাপার নিজেদের উদ্বিগ্নতার কথা প্রকাশ করে আসছে। তা স্বত্তেও মূলত পশ্চিমাদের আশ্বাসে এবং রুশ বিরোধী সেন্টিমেন্ট থেকে পশ্চিমাপন্থি জেলেনিস্কি সরকার ন্যাটোতে যোগ দেয়ার ঘোষণা প্রত্যাহার করেনি। এমতাবস্থায় রাশিয়া নিজেদের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নামে ইউক্রেনে সামরিক আগ্রাসন শুরু করেছে।



এই জটিল সমস্যা বুঝতে হলে আমাদের আরো কিছু ব্যাপারে ফোকাস করতে হবে। ইউক্রেনে চলমান সংকট যে কেবল রাশিয়ার সাথে পশ্চিমা বিশ্বের আদর্শগত সংকট তা নয়। সোভিয়েত ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর আজকের ইউক্রেন সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ হয়। তবে পৃথিবীর প্রথম এই সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রটির প্রধানতম প্রতিপক্ষ হিসেবে উপস্থিত ছিলো তৎকালীন সাম্রাজ্যবাদী শক্তি তথা ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের নেতৃত্বাধীন পশ্চিম ইউরোপ।



সাম্যবাদী সোভিয়েত ইউনিয়নের সাথে সাম্রাজ্যবাদী, দখলদার শক্তি পশ্চিম ইউরোপের সংকট ঠিক তখন থেকেই। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নতুন সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোর মোড়ল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধানতম মিত্র থাকে পশ্চিম ইউরোপের সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলো।

এমতাবস্থায় সোভিয়েত ইউনিয়ন পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্রহিসেবে আত্মপ্রকাশ করার পর মূলত পশ্চিম ইউরোপকে কেন্দ্র করে ইউক্রেনে নিজেদের পারমাণবিক শক্তির সিংহভাগ মজুদ করে এবং এই পারমাণবিক শক্তির প্রধানতম টার্গেট ছিলো পশ্চিম ইউরোপ।



তবে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পর ইউক্রেন এই বিপুল পারমাণবিক শক্তির অধিকারী হয় তবে পশ্চিম ইউরোপের কতিপয় দেশের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ইউক্রেনকে পারমাণবিক শক্তি শুণ্য দেশে রূপান্তর করা হয়। এছাড়াও বিশাল মজুতকৃত পারমাণবিক শক্তির রক্ষণাবেক্ষণের খরচের ব্যাপারটিকেও আমলে নেয়া হয়েছিলো।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার যা এই সংকট বুঝতে সহায়ক হবে তা হলো রাশিয়া এখনো ইউক্রেনকে সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ হিসেবে দেখতে চায়, প্রকাশ্যে ব্যাপারটা যতোই বিদঘুটে দেখাক, রাশিয়ার মানসে এই চিন্তাটা সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর থেকেই দৃশ্যমান।



অন্যদিকে ইউক্রেনের জনগণ নিজেদের রুশ জাতি হতে স্বতন্ত্র মনে করতে স্বাচ্ছন্দ বোধ করে এবং ভাষাগত ও নৃতাত্ত্বিকভাবে নিজেদের রুশদের থেকে বৃহদাকারে পৃথক বলে মনে করে। তবে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে মূলত রুশ ভাষাভাষীদের বসবাস যারা নিজেদের নৃতাত্ত্বিক পরিচয়কে দেশের পরিচয়ের চেয়ে বড়ো করে দেখতে আগ্রহী। পূর্বাঞ্চলে বসবাসরত এই নাগরিকদের আবেগকে কাজে লাগানোর মাধ্যমে রাশিয়া ইউক্রেনকে নিজেদের শিবিরে রাখার কাজটি সফলভাবে করে আসছিলো।



রিলেটেড পোস্ট / আরো পড়ুন

Subscribe to our newsletter

Join our monthly newsletter and never miss out on new stories and promotions.